পুড়ে ছাই ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন, আহাজারি আর কান্নার রোল
পুড়ে ছাই ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন, আহাজারি আর কান্নার রোল
যুগান্তর রিপোর্ট, ৩০ শে মার্চ, ২০১৯।


রাজধানীর গুলশানের ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মার্কেট ভয়াবহ
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই
হয়েছে বহু ব্যবসায়ীর স্বপ্ন।
দু'বছর আগে আগুনে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল তা পুষিয়ে নেয়ার আগেই আবারও পুড়ল
ব্যবসায়ীদের কষ্টার্জিত শেষ সম্বল। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া মার্কেটে এখন
আছে শুধু ছাই। ছাই ছাড়া কিছু নেই। মার্কেটজুড়ে শুধু আহাজারি আর কান্নার
রোল।
শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গুলশান ১ নম্বরের এ মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের
ঘটনা ঘটে। আগুনের খবর পেয়ে ছুটে আসেন, ব্যবসায়ীরা, সাধারণ মানুষ, ফায়ার
সার্ভিস, নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট ও
নৌবাহিনীর ২টি ইউনিট আড়াই ঘণ্টা পর সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে
আনে।

সিটি কর্পোরেশনের ওই মার্কেটের প্রায় ১৮৮টি দোকান রয়েছে। সবগুলোই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের।
ব্যবসায়ীদের দাবি, মার্কেটে প্রায় ১৮৮টি দোকানের সবগুলোই পুড়ে ছাই হয়ে
গেছে। বেশির ভাগ দোকানগুলোতে ছিল দুধ, মসলা, খাদ্য ও শিশুপণ্য।
দুই বছর আগে ডিএনসিসি মার্কেটে পুড়ে গিয়েছিল ব্যবসায়ী মামুন হোসেনের
মসলার দোকান। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও আগুন লাগার ঘটনা ঘটল।
আগুনে মামুনের দুটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মামুন পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী।
মামুন জানায়, আমাদের সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত বছর আগুন লাগার পর অনেক
কষ্টে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্ঠা করছিলাম। আবারও আগুনে আমাদের সর্বস্বান্ত
করল। এই মার্কেটে তার আরও দুই ভাইয়ের দোকান পুড়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
ডিএনসিসি মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি এ
মার্কেটে আগুন লেগে সবকিছু পুড়ে যায়। তখন প্রণোদনা দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো
পাননি সেই সহায়তা।
মামুনের দাবি, সরকার ও সিটি কর্পোরেশন যেন ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ায়।
শুধু মামুন নয়, ডিএনসিসির এই মার্কেটের আগুনে সর্বস্ব হারিয়েছেন বহু ব্যবসায়ী। তাদের শেষ সম্বল এখন শুধুই চোখের পানি।

ডিএনসিসি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স
অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ বলেন, এর আগে ২০১৭
সালের জানুয়ারিতে এই মার্কেটটি অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
অগ্নিকাণ্ডের পর মার্কেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ
থেকে যেসব সুপারিশ করা হয়েছিল তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
তিনি বলেন, এই মার্কেটের ব্যাপারে আমাদের অনেক নির্দেশনা আছে। এ মার্কেট
কমিটিকে তিন থেকে চারবার সাবধানতা নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও তারা
শুধরায়নি।
ডিএনসিসি মার্কেটে আগুনের ঘটনা পরিদর্শনে আসেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি
বলেন, এর আগেও এখানে আগুন লেগেছিল। কেন বারবার এই অগ্নিকাণ্ড হচ্ছে সেটা
খতিয়ে দেখা হবে। এখন সময় এসেছে স্থায়ী সমাধান করার।

No comments